লক্ষ্মণ রায়,পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ১৫টি পরিবারের মাঝে সরকারি সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও ৬ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চৌধুরীপাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবারের প্রায় ৩৪-৩৫টি বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ব্যাপক। সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে আমি সবার প্রতিনিধি। আমি হাততালি দেওয়ার কিংবা হাততালি পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। আমার রাজনীতি জনগণের জন্য-জনগণের প্রয়োজনে, জনগণের দুর্দিনে পাশে থাকার রাজনীতি। তিনি বলেন, “সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় আনা উচিত নয়। আগুন তো দেখে না কে বিএনপি, কে জামায়াত কিংবা কে অন্য কোনো দলের। তাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছাতে হবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের হাতেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার কোনো মসজিদ, মন্দির কিংবা গির্জা আমার অনুদানের বাইরে থাকবে না। বর্তমান সরকারের মেয়াদে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না। পর্যায়ক্রমে সব রাস্তা পাকাকরণ করা হবে।”
নদীভাঙন প্রতিরোধে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এক ছটাক জমিও যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান নয়; বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুসা মিয়া, দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রহিমুল ইসলাম বুলবুল, সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
















