রকিবুল হাসান রিপন লালমনিরহাট :
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য সিংগীমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই পাঠদান বন্ধ করে বিদ্যালয়ে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আগে চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ছিলেন বলে দাবি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পাঠদান কক্ষ ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন না।
স্থানীয় একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী দাবি করেন, এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক ও তিনজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পাঠদান পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানা যায় , সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পর্যন্ত খোলা রাখা এবং নিয়মিত পাঠদান পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার সুযোগ নেই। দায়িত্বে অবহেলা বা সরকারি নির্দেশনা অমান্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজিলাতুন্নেছা বলেন, আমার মেয়ে অসুস্থ থাকায় আমি আগে চলে এসেছি। তবে সহকারী শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যোগেন্দ্রনাথ সেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করা হলে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকিউজ্জামান বলেন, কোনো কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, যথাযথ কারণ ও অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া নিয়মবহির্ভূত। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















