লক্ষ্মণ রায়, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সন্ত গৌড়ীয় মঠে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই, ৩১ আষাঢ়) ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের পবিত্র রথযাত্রা উৎসব। দেবীগঞ্জ করতোয়া সেতুর পশ্চিম তীরসংলগ্ন মঠে আয়োজিত এ উৎসবে উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে।ভোর থেকেই মঠ প্রাঙ্গণে মঙ্গল আরতি, পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, রথ টানা এবং ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী ভক্তিমূলক পরিবেশে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। রথযাত্রাকে ঘিরে মঠ প্রাঙ্গণে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ (দেবীগঞ্জ-বোদা) আসনের সংসদ সদস্য মো. ফরহাদ হোসেন আজাদ।
এ সময় সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। উলুধ্বনি ও হরিধ্বনির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এখানে এসেছি। আমার নির্বাচনী এলাকাসহ সারা দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।
দেবীগঞ্জ-বোদায় সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান-সবাই এ দেশের সমান মর্যাদার নাগরিক। একটি মসজিদের জন্য সরকারি বরাদ্দ হলে একটি মন্দিরও সরকারি বরাদ্দ পাবে। ইতোমধ্যে আমার পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্দিরে অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”তিনি আরও বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশে বড় হয়েছি। প্রথম সংসদ অধিবেশনেই সনাতনী সম্প্রদায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেছিলাম। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সকল সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আমি সবসময় কাজ করে যাব।”অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুসা মিয়া, দেবীগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ উমাপতি রায়, দেবীগঞ্জ সন্ত গৌড়ীয় মঠের সভাপতি কীরেন চন্দ্র দাসাধিকারী এবং সাধারণ সম্পাদক হরিশ রায়। এছাড়াও সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক ভক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ রথযাত্রা উৎসব শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, রথযাত্রা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ও প্রাচীন ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব, বড় ভাই বলভদ্র ও বোন সুভদ্রাকে সুসজ্জিত রথে আরোহণ করিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে গুণ্ডিচা মন্দিরে নেওয়া হয়। ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে রথের দড়ি টেনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও সৌভাগ্য লাভের প্রত্যাশা করেন। ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি এ উৎসব সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, মানবকল্যাণ এবং সকল মানুষের সমান অংশগ্রহণের বার্তা বহন করে। রথযাত্রার নয় দিন পর উল্টো রথ বা বাহুড়া যাত্রার মাধ্যমে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব পুনরায় মূল মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করেন।



















