মোঃ শফিয়ার রহমান পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছায় পারিবারিক কলহ ও স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গলায় লাইলনের দড়ি পেঁচিয়ে রিংকু সরদার (২৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের উত্তর বাইনবাড়িয়া গ্রাম ভিকটিমের স্বামী রিবারণ সরদারের বাড়িতে।
স্বামী রিবারণ সরদারের পারিবারিক সূত্রে
জানা গেছে , শুক্রবার রাতের যেকোনো এক সময় সবার অগোচরে স্বামী রিবারণ সরদারের বসত বাড়ির সামনে দক্ষিণ পাশে গরুর গোয়াল ঘরের ভিতরে বাঁশের আড়ার সাথে গলায় লাইলনের দড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ রিংকু সরদার। সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ভিকটিমের শাশুড়ি গোয়াল ঘর থেকে গরু বের করতে যেয়ে দেখে বউমা রিংকু সরদার বাঁশে আড়ার সাথে গলায় লাইলনের দড়ি পেচিয়ে ঝুলে আছে। এ সময় তার ডাক চিৎকারে স্হানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গৃহবধূ রিংকুকে ঘটনাস্থল থেকে নামিয়ে ফেলেন এবং স্হানীয় গ্রাম্য ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা- নিরিক্ষা করা হলে গ্রাম্য ডাক্তার গৃহবধূ রিংকুকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা পাইকগাছা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় নভোতোষ মন্ডল মুঠো ফোনে জানান, এ দম্পতির সংসারে একটি ৬ বছরের মেয়ে সন্তান রয়েছে। তাদের পারিবারিক জীবনে সর্বদা ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। প্রায় মাস খানেক আগে ভিকটীম তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে বাপের বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে আনুমানিক ১৫ দিন আগে আবার স্বামী গিয়ে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ফিরিয়ে নিয়ে আসার পর শুক্রবার রাতে এই ঘটনা। আমি ধারনা করছি পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
গৃহবধূ রিংকুর চাচা, নিতিশ চন্দ্র সরকার জানান, বিয়ের পর থেকেই আমাদের মেয়ের উপর স্বামীর পরিবার কর্তৃক নির্যাতন চলমান ছিল। তাদের ঘরে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়ায় স্বামীর নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করে আসছিলেন মেয়ে রিংকু (ভিকটিম)। সে মাস খানেক আগে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমাদের বাড়ি (ভিকটিমের বাপের বাড়ি) চলে এসেছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে জামাই এসে আর তার উপর নির্যাতন করবে না বলে ভুল স্বীকার করে মেয়েকে (ভিকটিমকে) পুনরায় তাঁর বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর শুক্রবার সকালে জানতে পারি সে আত্মহত্যা করেছে। তবে আমি ধারনা করছি রিংকুর উপর নির্যাতন চালিয়ে সুকৌশলে মেরে ফেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এর সঠিক তদন্তপূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে ভিকটিমের স্বামী রিবারণ সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়ায় তার মন্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
উক্ত ঘটনায় গড়ইখালীর বাইনবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ খাইরুল আলম জানান, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে মৃত্যুর কারণ। আর সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
















